ছন্নছাড়া জীবনের জানেমান দোস্ত হচ্ছে আলসেমী। সেই যে বিশ্বভারতী দেখার কথা লিখেছিলাম ২৪ এর নভেম্বরে, আর লিখা হয় নি। আজ আবার বসলাম বাকীটুকু নিয়ে।
কাঁটাতার কে আবিস্কার করেছে জানি না। তবে এখনকার জীবনের পরতে পরতে কাঁটাতারে নির্মম স্পর্শ অনুভব করি। বিশ্বভারতীর বিশালতা কাঁটাতারের পরতে আটকানো। শাসকগোষ্ঠি আন্দোলনের আগুনের লেলিহান শিখাও স্তব্ধ করতে গিয়ে নির্বাক করে দিয়েছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় । মনখুলে দেখা হলনা। শান্তিনিকেতনে এলো না শান্তি রুদ্ধদ্বারে দাঁড়িয়ে শ্রুতি গোস্বামীর গানে মনযোগ দিলাম –
তোমার জন্য আজ মন আনমনা
তবুও তেমন অনুযোগ আনবো না…
গন্ত্যবের পরিবর্তন এলো। ছুটে চললাম শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি ভবন দেখতে। চমৎকার প্রকৃতির মাঝে প্রকৃতিকে সাথে নিয়েই ‘প্রকৃতি ভবন’। নানা আকৃতির ‘জীবাশ্ম, শিলা খন্ড সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই শিলাখন্ডগুলো কার মত দেখতে, সেই অনুযায়ী নামকরণ করা হয়েছে। প্রবেশমূল্য তো দিতেই হবে, তবে ছবি তুলতে চাইলেও কিছু টাকা গুনতে হবে। কিছূ দেখবো আর ছবি তুলবো না, তা তো হবার নয়।
কয়েকটা গ্যালারিতে প্রকৃতিজাত জীবাশ্ম ও প্রস্তর খন্ড সাজানো রয়েছে। এছাড়াও উম্মুক্ত চত্বরের নানা স্থানে বেশ কিছু স্থানে নানান শৈল্পিক মাধুর্য। বেশ কিছু ‘উড ফসিল’ তথা ‘উদ্ভিদ জীবাশ্ম’ আছে গ্যালারীতে। জীবাশ্মগুলি অদ্ভুত সুন্দর আকৃতির। প্রকৃতি সময়ে সময়ে আপন খেয়ালে নিজের হাতে তৈরি করেছে এসব। অপূর্ব সব ফসিলগুলোর আপনা আপনি কল্পনা জগতের অনেক কিছুর সাথেই মিলে যায়। এসব দেখতে দেখতে বিস্ময়ের অবকাশ থাকে না। প্রতিটি ফসিলের (মূর্তির) নীচে ছোট ছোট অক্ষরে তার বর্ণনা বা পরিচিতি লিখা আছে। প্রকৃতিই ভাস্কর হয়ে সময়ের হাতুড়ি-ছেনি দিয়ে এসব তৈরি করেছে। মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।
চলবে..