ভেবেছিলাম গোসল করতে করতে ‘ওর তুমমমমম’ গানটি গাইবো। গাওয়া হল না। গিজার থেকে গরম পানি এলো না। হাল্কা শীতে ঠান্ডা পানিতে কাঁপুনি শুরু হল। তো গানের অবস্থা কেমন হবে ভাবতেই গান বন্ধ। গোসল সেরে নিলাম। রুম সার্ভিসে কল করে খাবার রুমেই দিতে বললাম। খেতে খেতেই চোখ জুড়ে ঘুম। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই রাজ্যের ঘুম জেঁকে বসলো। মনে মনে পার্বতির উদ্দেশ্যে রবীন্দ্র নাথে দু’টি চরণ উৎসর্গ করলাম।
‘আমার মনের মাঝে যে গান বাজে শুনতে কি পাও গো
আমার চোখের ’পরে আভাস দিয়ে যখনি যাও গো॥
একদমে রাত কাবার। ঘড়িতে সকাল আটটা বাজে। তারাতারি করে রেডি হলাম। টাকা ভাঙ্গাতে হবে। টাকার চিন্তায় মন অস্থির। হোটেল ভাড়া দিতে হবে। সকালের নাস্তা আর ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভাড়াটুকু আছে। পার্বতির সাথে আরেকবার দেখা করার আশা ছেড়ে বেড়িয়ে পড়লাম। বেড়াতে এসে এই প্রথম ক্যামেরা বাক্সবন্দি থাকলো। রিক্সা ওয়ালাকে বললাম নাস্তা খাব। ভাল কোন হোটেলে নিয়ে চল। সে রাস্তার পাশে একটা মাঝারী আকারের মিষ্টির দোকানের সামনে রিক্ষা থামিয়ে দিল। দোকানের বাইরে লুচি ভাজা হচ্ছে। লম্বা লাইনে অনেক মানুষ। আমাদেরতো আবার লাইন ধরার অভ্যাস নেই। একটু ফাঁক পেয়েই দাঁড়ানোর চেষ্টা করলাম। একজন বললো,”দাদা দোকান থেকে টাকা দিয়ে স্লিপ নিন। কি আর করার। টাকা দিয়ে স্লিপ নিয়ে আবারও লাইন। লুচি আর আলুর দম। বেশ ভাল। মন ভরে খেয়ে টাকা ভাঙ্গানোর উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলাম।
কয়েকবার এদিক ওদিক ঘুরে বেশ ক্ষতি সহ্য করে টাকা ভাঙ্গানো গেল। কিন্তু মেজাজটা পুরাই বিগড়ে গেল। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মেজাজের অগ্নিতে ঘি ঢেলে দিল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। গত আন্দোলনের সময় সেই যে বন্ধ হয়েছে। আজও খোলেনি। হা কপাল! আমার মনের বেদনা তাই রবীন্দ্র নাথ আগেই লিখে গিয়েছিল:
“বড়ো বেদনার মতো বেজেছ তুমি হে আমার প্রাণে,
মন যে কেমন করে মনে মনে তাহা মনই জানে”॥
“বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী”- উঁচু তারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে অন্তত দু’টো ছবি তুললাম। সেই তালগাছ আর বটগাছ। তারপর ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর। কোন কিছুই হয় না। এই যে অমিত বাসনা নিয়ে, সাত সমুদ্র না হোক কয়েকটা নদী তো পাড়ি দিয়েছি। মনের মাঝে শুধুই খচ্খচ্। রবী ঠাকুর আমাদের সকল মনের অবস্থা বুঝি আগেই বুঝেছিল। তাই লিখেছেনঃ
‘অনেক পাওয়ার মাঝে মাঝে কবে কখন একটুখানি পাওয়া,
সেইটুকুতেই জাগায় দখিন হাওয়া॥
দিনের পরে দিন চলে যায় যেন তারা পথের স্রোতেই ভাসা’।
বাহির হতেই তাদের যাওয়া আসা’।
চলবে..