– ভাই ওয়াসরুম টা কোন দিকে? রেষ্টুরেন্টের টেবিলবয়কে জিজ্ঞাসা করতেই সে আরেকজনকে হেঁকে বলল
– এই ওনাকে স্প্রাইটের বোতলটা এনে দে
সেলিম ভাই স্প্রাইটের বোতলের কথা শুনে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। আমিও।
ভোর পাঁচটায় রওনা হয়ে আমি আর সেলিম ভাই সবে নেমেছি নওগায়। প্রধান সড়কের রুবির মোড় ব্যস্ততায় ভরা। আমরা যেখানে নেমেছি, তার উল্টাদিকেই পঞ্চ হোটেল ও রেস্তোরা। চা পানের উদ্দেশ্য দু’জনেই ব্যস্ত সড়ক পার হলাম। চায়ের অর্ডার দিতেই প্রকৃতি ডেকে বসলো দু’জনকেই। টেবিলবয়কে ওয়াসরুমের ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতেই স্প্রাইটের বোতলের কাহিনীর অবতারনা হল। সেলিম ভাই পাঞ্জাবী পরা নিপাট ভদ্রলোক। আমি বেশভুষা ঠিক উল্টা। মাথায় লাল-কালো রঙ মিশ্রিত চুলের অদ্ভুত বাবরী। হাতে লম্বা লেন্সের ক্যামেরা। হাত ভর্তি পুথির মালা। এই অদ্ভুত জু’টির দিকে তাকিয়ে সসব্যস্ত একজন সেলিম ভাইয়ের হাতে ছোট একটি স্প্রাইটের বোতল তুলে দিলেন। বোতলটি দেখে আমরা অবাক হলাম। সত্যিই বোতল নিয়ে কোথাও দাঁড়াতে হবে? না তা নয়। বোতলের মাথায় সুতা দিয়ে একটা চাবি বাঁধা আছে। কিছুটা আশ্বস্ত হলাম। অন্তত বোতলে……. করতে হবে না। চাবির নিরাপত্তার জন্য বোতলের মাথায় বেঁধে রাখা হয়েছে। এবং আমরা হাসতে হাসতে বিষম খেয়ে চা শেষ করলাম।