জীবনভগ্নাংশ-প্রিয় শুকতারা: পর্ব-১

মাঝে মাঝে মনে হয়—মানুষের জীবনটা যেন এক অদ্ভুত দোলাচল।

একদিকে কথা, অন্যদিকে মন।

কত সহজেই কথা বলা যায়, অথচ মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা যে সত্যি, তা বলা হয়ে উঠে না সহজেই।

বসন্ত বাতাসে বা শরতের আকাশে মন যা চায়, কথা কেন যেন গ্রীস্মের তীব্র দাবদাহ হয়ে যায়। মন ভাঙতে চায় না, তবুও কখনো কখনো কথাই হয়ে ওঠে কালকূটের বিষে ভরা তীব্র তীর—

নিঃশব্দে বিঁধে যায় হৃদয়ে।

মন কেঁদে ভিজে যায় ভিতরে ভিতরে,

তবুও মুখে উচ্চারিত হয় মেঘে ঢাকা সূর্যালোকের মত চকিত হাসির ভান

-যেন কিছুই হয়নি!

হয়ত জীবনের প্রতিটি সম্পর্কে টানাপোড়েনের পারদের উঠানামা অনিবার্য। প্রেমে মন উজাড় হয়ে যায়, অথচ অনেক সময় বলতেই পারি না, “তুমি আমার কাছে কতটা প্রয়োজনীয়।”

রাগে ভিতরটা পুড়ে যায়, কিন্তু মুখে বলি, “না, কিছু না।”

বাইরে শান্ত, ভেতরে জ্বলন্ত আগুন—

এই দুইয়ের মাঝেই বোধহয় দেহে ক্লান্তির বাবুই পাখী বাসা বাঁধে।

ভাবি, যদি কখনো কথা আর মন একই সুরে বাজত,

তবে হয়তো সাগর পাড়ি দেবার যন্ত্রণা সহ্য করতে হত না।

জীবনটা হয়তো হতো আরও কোমল, আরও নির্মল, আরও সত্য।

কথা বলার আগে মনকে শোনা কত জরুরি।

তারও আগে বাদ দেয়া দরকার অভিনয়।

মনের গভীর সত্য যদি কথায় প্রতিফলিত হয়,

তবেই সম্পর্ক বাঁচে, ভালোবাসা টিকে থাকে,

জীবন হয়ে উঠে সৌন্দর্যের লীলাভুমি।

কখনো এই চিঠির শব্দগুলো কোন গানের সাথে মিলে যায়,

জেনে রেখো—এই কথাগুলো শুধু শব্দ নয়,

এগুলো মনের নিঃশব্দ সুরের সিম্ফনি।

ভালো থাকার নিরন্তর শুভকামনা।

ইতি কালপুরুষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top