আবারো লিখতে বসলাম তোমাকে আমাদের জীবন নিয়ে। কত না বিচিত্র মানবজীবন, তাই না! প্রতিদিন আমরা কত অদ্ভুত ঘটনার ভেতর দিয়ে যাই-হাসি, কাঁদি, আবার নতুন করে শুরু করি। আমরা কেউ জানি না আগামীকাল কেমন হবে, তবু সকালের আলোয় আশার ফুল তুলে বেরিয়ে পড়ি জীবন সংগ্রামে।
এই অনিশ্চয়তাই জীবনের আসল সৌন্দর্য। হয়ত এখান থেকেই জন্ম নেয় গল্প, কবিতা, গান, নাটক। হয়ত নয়, এখানেই শিল্প-সাহিত্যের সূতিকাগার, জীবনেরই প্রতিধ্বনি, আমরা বাঁচি, আমরা কষ্ট পাই, চোখের জল মেখে কথা বলি, তাই-ই একসময় গল্প হয়ে ওঠে।
একসময় গল্পগুলো ছিল সহজ, রূপকথার মতো নির্মল। রাজকুমার ভালোবাসতো ঘুটে কুড়ুনির মেয়েকে, রাজকুমারী হারিয়ে যেত রাখাল ছেলের বাঁশির সুরে। তখন ভালোবাসা ছিল নিষিদ্ধ, তবু পবিত্র। সমাজের দেয়াল ছিল উঁচু। এখনও নিষিদ্ধ প্রায়। এখন কখনও কখনও সমাজের প্রাচীর চীনের প্রাচীরের চেয়েও কঠিন। তবু কেউ কেউ তাতে ফাটল ধরায় সাহসে।
কিন্তু সময় বদলেছে। এখন রাজকুমার নেই, রাজপ্রাসাদও নেই। আছে শুধু মানুষ-যে অফিসে যায়, ক্লান্ত হয়ে ফেরে, আর রাতে জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবে-
“আমার জীবনেও কি কোনো গল্প আছে?”
হয়তো আছে, শুধু তার নামটা এখনো কেউ রাখেনি। অথবা আমরা রাখতে চাই না। আজকের গল্পগুলো অন্য রকম। এখানে ভালোবাসা রাজসিংহাসনের নয়, হয়তো মেট্রোর ভিড়ে এক মুহূর্তের চোখাচোখি। বা একটুখানি ঘোরাঘুরি। শ্মশানে বালিতে চাঁদের আলোর খেলা, বা গোলাপী চাঁদের আলোয় স্নান করা। এখানে সংগ্রাম রাজ্য জয় নয়, নিজের স্বপ্নটুকু বাঁচিয়ে রাখাই বড় বিজয়।
তবুও গল্প থেমে যায় না- কারণ জীবন নিজেই এক গল্পকার। প্রতিদিন নতুন অধ্যায় লেখে, নতুন ভাষা খোঁজে, নতুন নিয়ম গড়ে। আর যদি কেউ সাহস করে পুরনো নিয়ম ভাঙে, নতুন এক ভালোবাসার সংজ্ঞা লেখে, তবে তাকে থামানো যায় না।
কারণ প্রতিটি প্রজন্মেরই আছে নিজের সত্য, আছে নিজের কাব্য ।
জীবনের দর্শন আসলে বড় সরল-যে নিয়ম ভাঙতে ভয় পায় না, সেও একদিন নতুন নিয়মের জন্ম দেয়।
নদী যেমন নিজের পথ খুঁজে নেয় পাহাড় ভেঙে, তেমনি জীবনও নিজের গল্প লেখে সব বাঁধন ছিন্ন করে। আমরা মানবজীবনের এই বিচিত্রতা অবাক বিস্ময়ের সাথে লুটোপুটি খাই।
এটি সৃষ্টিরই রসায়ন। যেখানে প্রতিটি মানুষ, নিজের মতো করে,
একেকটি অসম্পূর্ণ অথচ অনন্য গল্প হয়ে ওঠে। তুমি তোমার মত করে, আমি আমার মত করে।
তুমি আমি আর আমাদের গল্প অনন্তধারা, অধরা….
ইতি তোমারই কালপুরুষ।