জেদের বসে বেড়িয়ে পড়লাম। এবারের ঈদে কিছু একটা হবে, লাল ফড়িং সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়াবো বনের মাঝে। হলো না কিছূই। টুকিটাকি যে ক’জন বন্ধু আছে, ফেসবুকে ঈদ মুবারক জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছি। অন্যরাও তাই করেছে। সুতরাং ঈদ বা পরবর্তী জ্যান্ত বন্ধু দরকার ছিল। একটা বন্ধু ছিল, মনে করেছিলাম সে হয়ত সময় দেবে। সে ঈদের দিন থেকে ফোন আর ধরে না। অবশেষে তার ফোন বন্ধ হয়ে গেল না বন্ধ করে দিল বুঝলাম না। যা বাবা! মেজাজ আর কাহাতক ধরে রাখা যায়।
ছোটবেলা আর বুড়োবেলায় মানুষ নাকি একই রকম হয়ে যায়। কিছু না পেলে ছোটবেলায় মাটিতে গড়াগড়ি দেয়া ছিল মোক্ষম অস্ত্র। বুড়োবেলায় তো তা হবার নয়। গড়াগড়ি দিলে সবাই ধরে সোজা পাবনা পাঠিয়ে দেবে। সুতরাং জেদ আরো চেপে গেল। ছোটবেলায় সুবিধা ছিল, না বুঝে অবুঝ হওয়া। কিন্তু বুড়োবেলায় সব বুঝেও অবুঝ হতে হয়। পাব না জেনেও পেতে ইচ্ছে করে। সব হারানো কোন এক বালকবেলার হাহাকার। ‘ কতটা হাত বাড়িয়ে দিলে তোমার মন ধরা যায়, কতটা পথ পাড়ি দিলে তোমার প্রেম ছোঁয়া যায়………… রাত ১২টায় টিকিট কেটে রাজশাহীর গাড়ীতে উঠে বসলাম।
রাজশাহী অনেক স্মৃতিময় শহর। ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বছরে অন্তত ৪বার যেতে হত ছেলেকে ক্যাডেট কলেজে দেখতে। চেনা শহরটিতেই হারিয়ে যাবার ইচ্ছেঘুড়ি উড়িয়ে দিলাম। গাড়ীতে উঠে হতভম্ব। আমি একা একটা যাত্রী গোটা বাসে। ড্রাইভার, সুপারভাইজার আর হেলপার আর আমি। যাত্রী না থাকায় এসি’র সকল ঠান্ডা বাতাস আমার চারপাশে আসর বসালো। আমিও ৩খানা কম্বল জড়িয়ে যুত করে বসে থাকলাম। হাতে কল্কি না হোক একখানা ডাব্বা হুকো থাকলে মন্দ হত না। অবশেষে রাজশাহী।
রাজশাহী শহর অনেক সুন্দর হয়েছে। রোড ডিভাইডারগুলো বৃষ্টিস্নাত হয়ে ঝকঝক করছে। নানা রঙের ফুল শোভাবর্ধন করেছে। কি যেন হয়েছে মনের। কোন ছবি তুলতে ইচ্ছে করলো না। মনে হল, থাক না মনের পর্দায় ছবি গুলো। পার্থিব জগতে টেনে আনার কি দরকার। স্মৃতিময় অতীতেই জমা থাক। আমি আজ স্বপ্নের মত কোন ভবিষ্যতের আকাঙ্খায় এখানে আসিনি। এসেছি বুড়ো বেলার জেদের বসে।
চলবে-