জীবনভগ্নাংশ-সরল কর

‘তোর সাথে খেলুম না’ বা ‘তোরে আর খেলতে নিমু না’ এই কথা দু’টির সাথে কমবেশী আমরা সবাই পরিচিত। ছোটবেলায় খেলার সাথীর মত এই দু’টি কথাও সাথী ছিল। কথা দু’টির অর্থ কাছাকাছি হলেও শেষের কথাটির ভয়ংকর। প্রথম কথাটির মাঝে অভিযোগ, অনুরাগ স্নেহ ভালবাসা কিছুটা হলেও অনুভব করা যায়। কান্নাকাটি, ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়া যেত। কিন্তু ‘তোরে আর খেলতে নিমু না’ এটা স্যাংশন। ক্ষমতার দাপট। হয়ত বলটি তার, অথবা তার বাড়ীর উঠোনে খেলতে যেতে হতো। সুতরাং তার কথামত না চললেই স্যাংশন জারি। কি অদ্ভুত ছিল সেই সময় গুলো।

এখনও যে নাই, তা বলা যাবে না। এখন ভাষার পরিবর্তন হয়েছে। ছোটবেলার খেলা নেই, তাতে কি হয়েছে। যাপিত জীবনের নানা টানাপোড়া, হাত টান, অথবা বুদ্ধি পরিমর্শ ইত্যাদিই তো খেলা। পাটিগণিতের সরল কর অংকের জটিল ধাঁধাঁ এখন জীবনের পরতে পরতে। এই ধাঁধাঁগুলোকে পাশ কাটিয়ে জীবন এগিয়ে নেয়াই হয়ত ‘সরল কর’ অংক। অন্তত তাই মনে হয়। এখানেও কখনও কখনও শুনতে হয় ‘তোর সাথে খেলুম না’।

চাকরির জন্য যে জীবন বৃত্তান্ত লিখতে হয়, সেখানে যদি জীবন যাপনের দুঃখের অভিজ্ঞতা লিখার সুযোগ থাকতো, তাহলে অনেকেরই জীবন বৃত্তান্ত গোটা উপন্যাস হতো। এছাড়া স্যাংশন তো আছে। পারিবারিক, অফিসিয়াল, বন্ধুত্বের, বাজারের আরো কত ধরণের স্যাংশন। আমরা শুধু ভূ-রাজনীতির স্যাংশন নিয়েই মেতে আছি, প্রতিনিয়ত জীবন-মন অবরুদ্ধ হচ্ছে, অবরুদ্ধ করছে, তা ভেবে দেখবার সময়ও হয় না। কখনও জানান দিয়ে, কখনও বা নীরবে। সন্ধ্যায় যে মানুষটি হাসি মুখে গল্প করে বাড়ী ফিরে যায়, সকাল হতে না হতেই তার বাড়ীর সকল জানালা-দরজা জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সরল অংকটি আরো জটিল হয় যায়। দিন যায় রাত যায়-খেলতে ডাকে না, খেলা হয়ে উঠে না।

-চলবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top