জীবনভগ্নাংশ-কথা ও মন

মা আসি – এই কথা বলে ছোটবেলায় প্রতিদিন স্কুলে যাবার সময় মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিতাম। মাঝে মাঝে দুষ্টোমি করে বলতাম – মা যাই। পরম মমতায় মা শুধরে দিতেন, -যাই বলতে হয় না বাবা, বল আসি। নিজের ঘর হোক বা অন্য কোন বাড়ী হোক, কিছু একটা বলার অভ্যাস এখনও হয়ত আছে। এই ভাবে বলতে গিয়ে যদি শুনতে হয় –‘তো আমি কি করবো?’ কেমন লাগে।

ছোট্ট দু’টো কথা। যোজন-বিয়োজনের গবেষণাগার হয়ে উঠে। ‘কথা’ পৃথিবীর সব প্রাণ থেকে মানুষকে আলাদা করেছে। একটি শব্দই বুক ভেঙে দেওয়া নিঃশ্বাসকে শান্ত করে, আবার সেই একই শব্দ পারে হৃদয়কে ছিন্নভিন্ন করতে।

কথার কোন ‘থা’ বা তল নেই-এটা একটা গ্রামীণ প্রবচন। কথা যেন অদৃশ্য ফুল— কখনো সুবাস ছড়ায়, কখনো কাঁটার মতো বিঁধে যায়। তবু মানুষ বেঁচে থাকে কথার টানে। কোমল ডাক, আশীর্বাদের মৃদু সুর, বন্ধুর আন্তরিক সম্বোধন— এসবই জীবনকে করে তোলে স্নিগ্ধ।

কথা তো শুধু শব্দ নয়, এটি আত্মার ছায়া। কথার ভেতর দিয়েই মানুষ নিজেকে প্রকাশ করে, ভালোবাসা বিলায়, আবার কষ্টের জন্ম দেয়। আর মনের প্রকাশ কথার মাঝেই। দেব গৌতমের সেই গান, “কিছু মন শুধু মন ভাঙ্তে জানে,মিছেই বোঝানো মনের মানে”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top