“ছ্যাকা”—শব্দটা শুনলেই কেউ হাসে, কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়।
“আপনার কবিতাগুলো একদম ছ্যাকা খাওয়া মার্কা, খাইছেন নাকি ইদানিং ছ্যাকা?”—
এক বন্ধু ফোনে হঠাৎ এভাবে জিজ্ঞেস করল। এই প্রশ্নে একটু থমকে গেলাম। আসলেই কি আমি ছ্যাকা খাইছি? সাধারণত সবাই ছ্যাকার সঙ্গে প্রেমের ব্যর্থতা জুড়ে দেয়।
কিন্তু সত্যি বলতে, ছ্যাকা মানে এক ধরণের ধোকা—
যে ধোকা আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে খাই, নিজের কাছ থেকে, মানুষের কাছ থেকে, সময়ের কাছ থেকে।
যে মানুষটাকে দেব-দেবীর মতো বিশ্বাস করি, তাকে সময়ের অপ্রত্যাশিত সময়ে মিথ্যা বলতে দেখি। যাকে স্পষ্টভাষী বলে শ্রদ্ধা করি, তাকে তুচ্ছ ঘটনার আড়ালে সত্য লুকাতে দেখি।
এমন সময় বিশ্বাস ভেঙে যায় নিঃশব্দে,
বুকের ভেতর জমে এক অদ্ভুত শূন্যতা—
যেন কেউ একে একে ভেতরের বাতিগুলো নিভিয়ে দিয়েছে,
আর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দেখতে হয়, যাদের জন্য আলো জ্বালিয়েছি তারা আলোকিত নয়।
ছ্যাকা আসলে ভেতরের বাকরুদ্ধ আয়না ভাঙা।
যেখানে আমরা নিজের বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি দেখি। যখন সেই আয়না বিচূর্ণ হয়, তখন হয়ত নিজেকে রক্ষা করার তাগিদে রূপান্তরিত হই—
হয়ত কমে যায় সরলতা, অথবা সচেতনতার বেড়াজালে আবৃত করি নিজেকে। হয়ত কমে যায় উজ্জ্বলতা, অন্তরের গভীরতায় কালো আঘাতের দাগে। হয়তো ছ্যাকা মানেই হারানো নয়।
এটি একটি নীরব আগুনের মধ্য দিয়ে জন্ম—
যেখানে সরলতা ভস্ম হয়,
কারো ভেতরে দৃঢ়তা জ্বলে ওঠে, কেউ অতলে তলিয়ে যায়।
মুশকিল আছে—
যারা ছ্যাকা খাওয়ার শিক্ষা পায় না, তারা আবারও বেলতলা যায়। তাদেরও দোষ নেই। দরপত্র আহ্বান করে তো বিশ্বাসীদের তালিকাভুক্ত হয় না।
ভালোবাসা নীরব, ছড়িয়ে দেয়া এটাই এর প্রকৃতি। আর তাই, ছ্যাকা খাওয়ার মাঝেও শেখা যায়—
কোথায় থামতে হবে, কোথায় এগোতে হবে, কীভাবে হারানোর মধ্যেও নিজেদের খুঁজে পাওয়া যায়।