জীবনভগ্নাংশ-সরল কর ১

হাঁটা শুরু করতেই হঠাৎ সিগারেট এর নেশায় পেয়ে বসলো। আমি সিগারেট খাই না। আজ কেন নেশার মত আকর্ষণ করছে বুঝতে পাচ্ছি না। বড় ভাইয়ের বাসায় খাওয়াটা বোধহয় একটু বেশীই হয়েছে। কাঠ ফাটানো শেষে প্রায় বিশুদ্ধ দুপুর। রোদ কিছুটা অবসন্ন। আস্তে আস্তে হেঁটেই বাড়ী ফেরার মনস্ত করেছি। তখনই এই নেশার উপদ্রব। সিগারেট এর দোকান খোঁজা শুরু করলাম। আশ্চার্য ফুটপাতে কোন দোকান নেই। দোকান না পাওয়াতে নেশা যেন আরো চড়ে গেল।

হাঁটতে হাঁটতে ষ্টার কাবাব এর সামনে পেলাম।

-একটা সিগারেট দেন তো

-কি সিগারেট মামা? কেনার অভ্যাস তো নেই, চট করে নাম মনে করতে পারলাম না। তবে বিজ্ঞাপনের স্মৃতি তো ভুলে যাবার কথা নয়। ‘তামাক ও ফিল্টার, দু’জন দু’জনার’ বেন্সন ও হেজেজ। একখানা বেনসন নিয়ে একটা টানে বুক ভরে ধোয়া নিয়ে মুখ ভরে ছেড়ে দিলাম। বাবা সিগারেট খেতে নিষেধ করে নি কখনও। শুধু বলেছিল নিজের টাকায় কিনে খেতে। কামাই করা শিখতে শিখতে সিগারেট শুরু করার বয়স শেষ। নেশা আর হয়ে উঠেনি। যাই হোক একটা চরম টান দিতেই নেশা শেষ। আর ভাল লাগে না। ফেলে দিতে ইচ্ছে করলো না। থাক না কিছুক্ষণ হাতের অলংকার হয়ে। শেষ হলে একটা সুখ টান দেয়া যাবে্। শুরু হল আবার হাঁটা।

কখন যে বাড়ীর পথে ছেড়ে রবীন্দ্র সরোবরের দিকে হাঁটা শুরু করেছি জানি না। মানুষের সম্মিলিত কলকাকলি আমাকে জানান দিল কোথায় এসেছি। ভালই লাগলো। অনেক স্মৃতিময় স্থান। সন্ধ্যায় ঘরে ফেরা পাখীদের সাথে এখানে কত কথা বলেছি, হেঁটেছি। গল্পে গল্পে ভরে থাকতো স্বাস্থ্য উদ্ধারের পদক্ষেপগুলো। এখন সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। স্থান আছে মানুষ নেই। মানুষ আছে সময় নেই। হয়ত সময় আছে, সেই মন নেই। একটা আছে তো আরেকটা নেই। ফিল্টার আর তামাকের মত হয়ে উঠে না ‘দু’জন দু’জনার।

চলবে..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top