চাঁদের অসহ্য আলোর প্লাবন। বুকের খাঁচা ভেঙ্গে বেদনার তান্ডব নাচন। তারাদের পাড়াতে বিরহের সানাই। তারাগণ হারিয়ে যাচ্ছে কালের ছায়ায়। নিস্তব্ধ অরণ্যে জ্বলতে থাকে ছোঁয়াহীন জীবন। কি এক অরণ্যক রাত অদ্ভুদ জ্যোৎস্নাময়। এভাবে কতক্ষণ বসে ছিলাম জানিনা। পাখীদের কাকলিতে অপার্থিব জগতের ইন্দ্রজাল ছিড়ে যায়। ফিকে হয়ে বিদায় জানায় চাঁদ। লাল জামা পরতে শুরু করেছে পুব আকাশ।
বনের বাড়ীতে নদীর বেড়ানো শেষ হয়েছে। কল কল করে উদোম শরীরে ফিরে যাচ্ছে নদীর বুকে। আকাশে এবার মেঘেরা বেড়াতে এল। মেঘের ছায়ায় পাখীদের আনাগোনা। কাছের লোকালয়ে মানুষের সাড়া পাওয়া গেল। হাকডাক করে মাঠের কাজের তাড়া দিচ্ছে। শান্ত নদীতে বৈঠা হাতে কর্মময় মানুষের চাঞ্চল্য। লাল জামা ছেড়ে হলুদ জামা পরতে শুরু করলো আকাশ।
লোক সমাগমের স্থানে চায়ের টং দোকান থাকবেই। রিসোর্ট থেকে একটু দূরে একটা চায়ের টং। চা খেতে খেতে গল্প হলো অনেক। বাঘমামার কথা, ঝড়ের কথা, চাষাবাদের কথা। প্রত্যেকেই একধরণের দর্শন আছে। নিজেদের বেঁচে থাকার যুদ্ধ আছে। শিক্ষার অভাবের কথা বললেন দোকানী। সব কিছূর মধ্যদিয়েই সাত পুরুষ ধরে এই বনেই তাদের বসবাস। বন ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। তাদের মন মানে না।
কথা বলতে বলতেই সকালের নাস্তার সময় হয়ে এল। আজ অবশ্য চির পরিচিত নরম খিচুড়ি, ডিম ভুনা, আচার, ভাজা শুকনা মরিচ ইত্যাদি। খেতে খেতে যাবার সময় হয়ে এলো। আজ ছেড়ে যেতে হবে এই অরণ্য, আরন্যক রাতের গন্ধ, তারাদের সখ্যতা, অন্তর জ্বালানো চাঁদের আলো, পাখীদের গান, লাল কাঁকড়াদের লুকোচুরি খেলা। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা ইরাবতি রিসোর্ট। মায়াবী রাতের স্পর্শহীন ছোঁয়া…………. চলবে