জীবনভগ্নাংশ-প্রপাগান্ডা

সম্প্রতিকালে ২টা প্রাণী গোটা ফেসবুক দখল করে ফেলেছে। এক: ১৫ লাখ টাকার ছাগল, ২; রাসেল ভাইপার। ছাগল নিয়ে আমি আর ছাগলামি করতে চাই না। এতদিন জানতাম ‘কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ’ এর কথা। এখন দেখি ছাগল খুঁজতে গিয়ে ‘আলীবাবা ও চল্লিশ চোর’ এর বিখ্যাত মন্ত্র ‘সিসিম ফাঁক’ হইয়া ধন-সম্পদ গলগলাইয়া পড়ছে। আর আমরা নেটিজনগণ ‘কান হারাইয়া গাধা শুধু চোখের জলে ভাসে’ কবিতার গাধার মত সম্পদ চুরি বা লুটের মত খেলার মাঝে কানসহ মাথা ঢুকাইয়া দিয়ে আনন্দ অশ্রু বিসর্জন করছি।

‘অশ্রু দিয়ে লেখা এ গান’ – আমাদের দুঃখের গান, আমরা কোনদিনই ভুলতে পারবো না। বহুজাতিক কোম্পানী, দেশ (পড়তে হবে ঘুষ প্রেম) প্রেমের শপথ নেয়া সরকারী কর্মকর্তাদের ‘একই বন্ধনে বাঁধা দু’জনে’ আমরা আটকা পড়েছি। এই বাঁধা থেকে আমাদের মুক্ত করতে কিছূ সরকারি দপ্তর আছে। তারা কি করে তারাই জানে। তবে মাঝে মাঝে খবর পাওয়া যায়, তারাও নাকি বন্ধনে আবদ্ধ।

এই বন্ধনের মাঝে হঠাৎ অ-সুরের বন্ধনের মত রাসেল ভাইপার বা আমাদের দেশের পরিচিত চন্দ্রবোড়া সাপ ফেসবুকে ডিম পাড়া শুরু করলো। ভাইরে ভাই এই ডিম সেই ডিম না! এই ডিম জীবনের সাথে সম্পর্কিত। মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমরাও সেই ডিম পাড়া শুরু করলাম। সারা দেশে ডিমপাড়া প্রায় শেষ। এখন ডিম ফুটানোর পালা। সকাল হতে না হতেই ডিম ফুটা শুরু হলো। এন্টিভেনমের পতাকা হাতে আমরা সবাই বেড়িয়ে পড়েছি।

রাসেল ভাইপার এর ডিম ছিল এন্টিভেনম এর চমৎকার একটা বিজ্ঞাপন এবং বাজারজাতকরণের কার্যক্রম। এই বিজ্ঞাপনের জন্য প্রয়াত সুনেত্রা না হোক অন্ত নাগিন ড্যান্সের জন্য কাউকে না কাউকে ভাড়া করতে হত। অথচ আমরা নেটিজনরা বীণের বাজনা ছাড়াই পুরা নাচ দিয়া দর্শকদের পুরাই উত্তেজিত করে দিয়েছি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাণীবিদদের ছড়াছড়ি। রাসেল ভাইপার নিয়ে এত মাতামাতির মাঝে তাদের কারো একটা বাণী নজরে এলো না। পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় নামক একটি অফিস আছে। তারাও নাগিণ ড্যান্সে অংশগ্রহণ করেছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কোন বাণী তাদের শুনিনি।

আমার ফটোগ্রাফার বন্ধু Sheikh Mohammad Yousuf Hossain একটা পোষ্ট আমার খুব মনে ধরেছে। “রাসেল ভাইপারের তেল মালিশ করলে বিশেষ মূহূর্তে ক্ষেপনাস্ত্রের মত শক্তিশালী হইয়া যায়” এই কথা ছড়াইয়া দিলে রাসেল ভাই’রের বংশ একদিনেই বিনাশ হইয়া যাইবে”

প্রকৃতিতে সবার বেঁচে থাকার উপায় দেয়াই আছে। আমরা সবাই সেই উপায় মেনে চললেই কারো কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, লুন্ঠনকারীরা প্রকৃতির সন্তান নয়। এরা প্রকৃতি ধ্বংসকারী। এরা মুখে এক, কাজে অন্য। বলবে এটা করবো না, কিন্তু ফাঁকি দিয়ে সেটাই করবে। আমাদেরকে ঠকাবে, কিন্তু ভাল মানুষের ভেক ধরে আমাদের সাথেই চলবে। এদের বিরুদ্ধেই ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি করা দরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top