কোথাও হৈ চৈ হলে মাছের বাজারে উদাহরণ টানা হয়। আমাদের জীবনটা প্রায়ই মাছের বাজার। তাই এটাকে আরেকটু উসকে দিতে ক্যামেরা হাতে হানা দিলাম রূপসা পাড়ের মাছের বাজারে। সূর্য তখনও ভালভাবে দেখা দেয়নি। তবুও রূপসার নৌকাগুলো বিনিসুতার মালা গাঁথা শুরু করেছে। কিছু কিছু মানুষ কাজের উদ্দশ্যে ঘর ছেড়েছে। রাস্তায় মানুষের আনাগোনা কম।
অথচ মাছের বাজারে শোরগোল তুঙ্গে। চারিদিকে মাছের ছড়াছড়ি। মাছের নৌকা থেকে মাছ নামছে। নিলামের হাঁকে মুখরিত গোটা বাজার। মাছ দেখে হতাশ হলাম। চাষের মাছে সয়লাব বাজার। পাঙ্গাস, রুই, নলা, শিং ইত্যাদি। সামুদ্রিক মাছ নাই বললেই চলে। কিছু কিছু ফ্রোজেন মাছ দেখলাম। শোরগোল পেলাম, মাছে দেখে মজা পেলাম না।
ফিরে আমার পথে হাঁটাহাঁটিতে ক্ষুধা পেল। রূপসার মোড়ে একটি হোটেলে ঢুকে পড়লাম। একটা টেবিলে বসে খাবারের জন্য বললাম। পাশেই একজন খাচ্ছেন। শুধু ভাত আর আলু ভর্তা দিয়ে। সরবরাহকারী কয়েকবার ডাল দেবার প্রস্তাব করলো। তিনি নিষেধ করলেন। ডাল নিলেই বাড়তি খরচ!! দ্রব্যের বাড়তি মূল্যের ফলে মানুষ খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে। নাস্তা শেষে আবার হাঁটা দিলাম। ঘাটের কাছে রাতের মাছের বাজার শুন্য খাঁ খাঁ। বিদ্যুতের বাতির হোল্ডারগুলো দোকানের ছাদ থেকে মাধবী লতার মত ঝুলে আছে।
ফেরার পথে সিএসএস এর দেয়ালের পাশে একটু থমকে দাঁড়ালাম। কোন এক কোম্পানীর বিজ্ঞাপনের রঙে দেয়াল লাল হয়ে আছে। দেয়াল দেখে প্রয়াত এরশাদ সাহেবের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি একবার বিদেশ ঘুরে এসে ঢাকা শহরকে তিলত্তমা করার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। কড়া আদেশ, রাজপথের সকল দেয়াল একই ডিজাইনের হতে হবে। শাসকগোষ্ঠির ইচ্ছা বলে কথা! শুরু হল কাজ। প্রত্যেকে তার বাড়ীর দেয়াল প্রস্তাবিত ডিজাইনে রূপ দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। জোগালদার হলো রাজমিস্ত্রি হয়ে গেল, বাড়ীওয়ালা হয়ে গেল আর্কিটেক্ট। ফলে যা হবার তাই! ঢাকার নাকে, মুখে, কপালে, ঠোঁটে তিলের পর তিল পড়তে থাকলো, হয়ে গেল তিলে তিলে উত্তমা…….
সিএসএস একটি সুপ্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন সংস্থা। এই সংস্থার রাস্তার পাশের দেয়াল…………..।