শান্ত নদীতে নৌকার দুলুনি নেই। তাই ছইয়ের উপর উঠে এলাম। পর্যটকদের জন্য বানানো এই নৌকা। ছইয়ের উপর লম্বা কাঠের বেঞ্চ বসানো। বেঞ্চে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকাটা ভাল লাগলো না। দুই বেঞ্চের ফাঁকে আকাশের দিকে তাকিয়ে শুয়ে পড়লাম। রাতগুলো যদি প্রহরীর হাকডাক বিহীন ভাবেই কাটিয়ে দেয়া যেত!
চওড়া নদীর ঠিক বুকের মাঝখানে রেখা টেনে টেনে চলছে নৌকা। যেমন করে ভালবাসা বুক চিরে ঢুকে লন্ডভন্ড করে দেয় সব কিছূ্। আমার চোখ বহুদিন পর বিমূর্ত আকাশের কালো অন্ধকার গিলে গিলে খাচ্ছে। নদীর দু’পাড়ের প্রাণী আর পাখীগুলো প্রাণ ভরে ঘুমিয়ে নিচ্ছে। আমি যেন পৃথিবীর প্রহরী।
চাঁদ তখনও ঘর ছেড়ে বের হয়নি। আকাশের নীচে এই অন্ধকারে হারিয়ে গেলাম। বাতাস ছুঁয়ে ছুঁয়ে বনের গন্ধ মাখছি শরীরে। অন্ধকারের মোহন রূপ ছেনে ছেনে অন্তর উষ্ণতায় ভরিয়ে দিচ্ছি। সাদা কালো অথবা রঙিন জীবনে নতুন কোন স্রোত। আস্তে আস্তে আকাশ বুকের কাছে ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল।
রাতের আকাশ। নিকষ কালো ঘুটঘুটে অন্ধকার নয়। তারার আলোতে ঘন ফিকে অন্ধকার। আকাশের বিমূর্ত চিত্রের মাঝে হীরের তারার লুকোচুরি। গোধুলীতে আকাশ রঙের টর্ণেডোতে দুলেছে। রাতে এসে ছড়িয়ে দিচ্ছে হীরের দ্যূতি। উদাস মনে নৌকায় চড়ে তারাদের বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়াচ্ছি। তারাদের বাড়ীর ওপারে কি কিছু আছে? চারদিকে হঠাৎ নেমে আসে শুধুই স্তব্ধতা। বিরহী মনটা যেন আরো বিরহী হয়ে উঠলো। কোন নরম হাতের ছোঁয়ার বন্ধনে হয়ত ব্রায়াম এডামসের মত গলা ছেড়ে গাইতাম –‘Look into my eyes, you will see, what you mean to me ……….Every thing I do, I do it for you.
এভাবে দু’ঘন্টা কখন পেরিয়ে গেছে, টেরই পাইনি। হঠাৎ আলো ঝলমল কুঁড়ে ঘর চোখের সামনে চলে এলো। ইরাবতি, বহু কাঙ্খিত সেই ইরাবতি। স্বপ্নের নৌকা যাত্রা ছেড়ে পিচ্ছিল কাঠের সিড়ি বেয়ে উঠে এলাম ঝলমলে ইরাবতিতে।
চলবে…