খুলনা পর্ব
অবশেষে ইরাবতিতে পৌঁছালাম। ততক্ষণে সুন্দরবনের নিশাচর প্রাণীগুলো খাদ্যান্বষণে বেড়িয়ে পড়েছে। বাতাসে কিছূ পাখীর ডানা ঝাপটানি ভেসে আসছে। কলকাকলি নেই। তবে বিরহী কোন এক পাখী মাঝে মাঝে বিলাপের সুরে ডাকছে। বয়ে যাওয়া জল সুর তুলেছে। এ গাছের গোড়া, ও গাছের গোড়ায় ছিবুড়ি খেলছে। আবার কল কল করে হেসে উঠছে। জোয়ার না ভাটা আমি বুঝতে পারিনি। জলের হাসি আপ্লুত করে রেখেছে আমার শব্দের পৃথিবী।
কোনকিছু চিন্তা না করে হঠাৎ ঘর ছাড়া আজকাল অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। ‘নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তায় চলেছি একা’ কোন এক ছবির গান। ছোটবেলায় জমির আইল ধরে নদীতে গোছলে যাবার সময় গলা ছেড়ে গাইতাম। তখনই আকাশ ও পথ কবে যে মনের বন্ধু হয়েছে জানা নেই। জীবন যাপনের ডামাডোলে মনের কোণায় হয়ত লুকিয়ে ছিল। জীবন সায়াহ্নের এই সময় কে যেন ফিস ফিস করে ইশারায় ডাকলো। বেড়িয়ে পর মন বেড়িয়ে পর। ইশারার এই হাতে চুড়ির নিক্কন নেই, শুধু আছে ঘর ছাড়ার আহ্বান । ছোটবেলার নীল আকাশ আর মেঠোপথের গন্ধ মেশানো আহবান। কোন কিছু ভাবার আগেই কখন যে এই আহবান আলিঙ্গন করেছি মনে নেই। এই আলিঙ্গনই এখন বাকী জীবনের পথচলা।
ভোরবেলা খুলনার বাসে উঠার পর চিন্তা হল কোথায় বেড়াবো। খুলনা শহর আমার অনেক পরিচিত। সুতরাং শহর ছেড়ে কোন এক দূরের পথে যেতে হবে। যেখানে আকাশ, মেঠোপথ, নদী মিলেমিশে একাকার। ভাবতে ভাবতে ইরাবতি রিসোর্ট এর কথা মাথায় এলো। ফোনে বন্ধুকে জানাতেই সে ব্যাগ গুছানো শুরু করে দিল। কিন্তু তার বিশেষ কাজ থাকায় দুপুরের আগে রওনা করা যাবে না। ইরাবতিতে থাকার ব্যবস্থা করা গেল। এখন দুপুর পর্যন্ত খুলনা শহরে ঘুর ঘূর করতে হবে।
চলবে..