জীবনভগ্নাংশ-খুলনা: পর্ব-১

মন্দিরে প্রকৃতি অনুভব করতে করতে প্রায় দুপুর পেরিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে প্রকৃতির আরেক অংশ জেগে উঠেছে। পেট চোঁ চোঁ করা শুরু করেছে। ঠিক তখনই বন্ধু বান্দা এসে হাজির। বিশেষ একটি হোটেলে খাওয়াবে। সিএনজি বা মহিন্দ্র এর ভাড়া দরদাম শুরু করলো। একটু অবাক হলাম। শহরের ভেতরেই তো। রিক্সা করেই তো যাওয়া যায়! বাহন ঠিক করে উঠে পড়লাম তিনজনে।

যাচ্ছি তো যাচ্ছিই। রাস্তার পাশের হোটেলগুলো দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছে। একটা নজরে পড়লেই চোখ চকচক করে উঠে, কিন্তু বাহন থামার কোন লক্ষন নেই। মনের দু:খে আর ডি বর্মনের বিখ্যাত গানটি প্যারডি করে গাইতে লাগলাম- খেতে খেতে খাওয়া হলো দেরী, তাই তো খেতে পারিনি। অবশেষে কাঙ্খিত হোটেলে পৌঁছালাম।

মুসলিম হোটেল। আহামরি কোন হোটেল নয়। বেড়া দেয়া হোটেলের মতো দেখতে। কিন্তু মানুষের সমাগম চোখে পড়ার মত। লাল রঙের অসংখ্য চেয়ার টেবিল কিছুটা অগোছানো ভাবেই সাজানো। কোন টেবিলে বসবো, সেটার খোঁজ পেতে বেশ সময় লাগল। পরিচছন্নতা শেষ করে টেবিলে বসলাম। রান্না করা তরকারি থরে থরে সাজানো। তরকারি দেখে অর্ডার করেতে হবে। নানান পদের মাছ। তবে অধিকাংশ মানুষের পাতে গরুর মাংস। তারমানে এটি গরুর মাংসের জন্য বিখ্যাত। গরুর মাংসের তরকারির গামলা দেখতে গিয়ে একটু অবাক হলাম। গরুর ‘নলি’ আলাদা করে রাখা। চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাতেই উত্তর এলো – অনেকে শুধু নলি খেতেই আসে এখানে। তাই আলাদা করে রাখা হয়েছে।

ইরাবতি যাবাবর আগে বন্ধুর আরো কিছু কাজ শেষ করতে হবে। সুতরাং হাতে কিছূ সময় আছে। চলে গেলাম বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ী। বেশ বড় একটা এলাকা নিয়ে সাদামাটা একটা দোতলা বাড়ী দাঁড়িয়ে আছে। কোন এক সময় জৌলুসে পরিপূর্ণ ছিল। এখন শুধু কাঠামোটাই কালের সাক্ষী হিসেব দাঁড়িয়ে আছে। এরকম ঐতিহাসিক বাড়ীগুলো সংরক্ষণে বড়ই দুর্বলতা আছে আমাদের। মূল বাড়ীটা লাল ইটের তৈরি ছিল। সেটা এখন সাদা ধবধবে বাংলো বাড়ী। খোলনলচে, রং ইত্যাদিই যদি পরিবর্তন করলাম, তাহলে সংরক্ষণ করলাম কি? অবশ্য আদি বাড়ীর একখানা ছবি দেয়ালে ঝুলে রেখেছেন কর্তৃপক্ষ! এদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ নিজেদের সব জ্ঞানে জ্ঞানী ভাবেন সব সময়। আর তাদের শৈল্পিক সহযোগী কনট্রাক্টরগণ। তার আলামত এখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে। বিফল মনোরথে মোঙ্গলা যাবার পথ ধরলাম।

চলবে..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top