ঈষৎ স্রোতের নদী। নদীর মাঝে নোঙ্গর করা মাঝারি নৌকা। রাস পূর্ণিমার রাত। হালকা কুয়াশা ভেদ করে আসা জ্যোস্নার আলো ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথায় চাঁদের দীপ্তি । একদল নারীপুরুষ একটা কেক ঘিরে বসে আছে। কেক এর মাঝে কোন নাম লিখা নেই। নেই কোন শুভেচ্ছা বাণী। ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে সাদা ধবধবে একটা কেক। শুধু একটা লাল ও আরেকটা সাদা গোলাপ মোনালিসার গোপন হাসি নিয়ে বসে আছে। চিরাচরিত হ্যাপি বার্থ ডে গান নেই। ঝর্ণার কলকল শব্দের সিম্পফনির মত একরাশ হাসি। হাসি আর হাসি। আমার জন্মদিন পালন হলো কেক কেটে।
নির্দিষ্ট কোন তারিখের বালাই নাই। এই মাসের কোন এক তারিখে আমার জন্মদিন। এটা পরিবার থেকে কথিত। সুতরাং পালনের এই দিন অজানা দিন। সন্ধ্যার পর চাঁদ যখন নাক বারবর উঠেছে, তখন কেক কাটা হল।
আমাদের জন্মের সময় মা জন্ম দিত। জন্ম তারিখ নির্ধারণ করতো স্কুলে প্রধান শিক্ষক ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফর্ম পূরণের সময়। সাধারণত এদেশে ১৫ বছর ৬মাস বয়সকে ম্যাট্রিক পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করা হত। তাই সেটাই সরকারি জন্মদিন হিসেবে গন্য। জন্মের সাল মনে রাখার জন্য মায়েদের পন্থা ছিল ভিন্ন। তারা বছর, বড় জোর মাসের কথা বলতে পারতো। জন্মদিন মনে রাখার বিষয়টা তাদের মাঝে ছিল না হয়ত। আমারটা তো নয়ই। খড়ের পালায় যে বছর আগুন লেগেছিল, বা বড় বন্যায় দীঘি ডুবে গিয়েছিল, বা বড় কোন ঝড়ে ঘরের চাল উড়ে গিয়েছিল, এরকম ঘটনাগুলো ছিল জন্মের সাল মনে রাখার মায়েদের পন্থা।
আজ ১৫ নভেম্বর রাস পূর্ণিমার ক্ষণে আমার জন্ম হয়েছে কি হয়নি , তা নিয়ে আমি ভাবনার জগতে প্রবেশ করিনি। ইচ্ছাই হয়নি। । শুধু অনুভব করছিলাম জ্যোৎস্নার আলোতে স্নানরত নদীর জল, আমাকে ঘিরে নারীপুরুষের সম্মিলিত হাসির ফুলঝুরি। আমার চারিদিকে সফেদ আলোয় পরীরা কলহাস্যে মত্ত। জন্ম তো আমি নিয়েছিই একবার, তবে এই রাত আমাকে আমার জন্মদিনকে ভিন্ন মাত্রা দিল। নিরাভরণ ছন্নছাড়া আমার নিজস্ব একটুকরো আকাশে এই উৎসব একটা নতুন চাঁদের জন্ম দিল।
বিঃদ্রঃ কুয়াশায় পূর্ণিমা চাঁদের ছবি ভাল তুলতে পারিনি। এটা ১ দিন পরের চাঁদ।