বিকট শব্দে বাজছিল— “দুষ্টু কোকিল ডাকে রে কুক কুক…”
কিন্তু আমার মনে তখন ‘কু’ ডাকলো।
রবীন্দ্র সরোবরে চলছে শরৎ উৎসব— “জুলাই ৩৬” উদ্যাপন। ক’দিন ধরেই শুনছিলাম, তাই ভাবলাম দেখি, জুলাই সনদের রাষ্ট্রীয় উৎসবে যাওয়া হয়নি—এইটা মিস করি কেন?
যাওয়া ভুল ছিল।
ইতিহাসের গন্ধ না পেয়ে পেলাম ইমিটেশনের গহনা, খাজা-বাতাসা, আইসক্রিম আর ভাজা-পোড়ার দোকান। জুলাই সনদের স্মৃতিচারণ নয়, বরং এক মেলার কোলাহল, যেখানে আত্মসম্মান আর ঐতিহ্য দুটোই হারিয়ে গেছে।
তবে একটা উপকার হয়েছে—“জুলাই সনদ” নিয়ে যাঁরা সভ্যতার কথা বলেন, তাঁদের ব্যাখ্যার আসল মানে এবার চোখের সামনে স্পষ্ট দেখলাম।
এই উৎসব রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত কি না জানা নেই, কিন্তু এতে ‘সভ্যতা’র ছোঁয়া কোথাও পেলাম না। ঢাকা শহরে বিনোদনের অভাব আছে, তাই হয়তো এমন ফালতু মেলাতেও ভিড় জমে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের মহিমা ব্যাখ্যার জন্য এমন আয়োজন মানে ইতিহাসকে অপমান করা।
আমরা এখনো সভ্যতার মানে জানি না।
বর্বরতা আর সভ্যতার পার্থক্য না বুঝে আমরা “উৎসব” করি—
ফলাফল দাঁড়ায়,
“থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর।”
এই হলো আমার মনের “কু” ডাক।