সুনামগঞ্জের পলাশ বাজার। ইতস্ততঃ ঘোরাঘুরি চলছে। হঠাৎ কবিতার সুর পাওয়া গেল। ছন্দময় কবিতা। কে যেন আবৃত্তি করছে। এই কবিতার একটি শব্দ আমাকে বেশ আগ্রহী করে তুললো। শব্দটি হচ্ছে ‘হাঁটু কোম্পানি’। কিসের মিটিং, কিসের সুটিং! সবকিছু ফেলে ক্যামেরা হাতে ছুটে গেলাম সেই কবিতার উৎসের দিকে। গিয়ে তো চক্ষু ছানাবড়া। একটি হাটু, তার উপর কাগজে সাজানো নানা রকমের গরম মশলা। আর হাঁটুর মালিক সেই কবিতা আবৃত্তি করছে। একটি বিজ্ঞাপনী কবিতা।
বিজ্ঞাপন মানুষকে আকৃষ্ট করে পণ্য কেনার জন্য। এর জন্য কোম্পানীগুলো অনেক টাকা খরচ করে। কিন্তু এই ভদ্রলোক তার পণ্যের জন্য নিজেই কবিতা বা গান সৃষ্টি করেছে। যে কবিতা/গান তার জীবিকার জন্য। গরম মশলা নামক একটি পণ্য। অতটা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও নয় যে মানুষ এমনিতেই এসে কিনবে। সুতরাং বাজারে এই পণ্য বিক্রয় করার জন্য তাকে অন্য পথ ধরতেই হয়েছে। তবে বেশ মজার এই কবিতা।
এই যে চান্দের গাড়ীর সর্বনাশ
মসলা খাবেন বার মাস
আমার নানার নাম আসগর আলী
আমি আনছি মশলার গাড়ী
নিয়া যান তারাতারী…….
এভাবে বলতে বলতে হাঁটুর উপর মশলা সাজাচ্ছে সে। সবশেষে হাঁটু কোম্পানীর পক্ষ থেকে আরো কিছু মশলা যোগ করছে। তারপরের অংশ আরো মজার কিন্তু অদ্ভুদভাবে আমাদের সামাজিক অবস্থা ও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেছে। তারপাশেই একটা বস্তায় জিরা আছে। সেখান থেকে খুবই অল্প জিরা মশলার মাঝে দিচ্ছে আর বলছে
এই যে দিলাম বয়স্ক ভাতা
বিধবা ভাতা
সম্মানী ভাতা,
পঙ্গু ভাতা
পারিবারিক ভাতা………………………… সর্বমোট ১০০ টাকা।
একজন ক্রেতা বলেই উঠলো,” ভাতা ভাতা করে যে দিচ্ছ, হাতে তো কিছুই উঠে না’
– মাসে মাসে কত টাকা ভাতা পান? সেই টাকা দিয়ে কি হয় আপনার সংসারে? বশ করুণ সুরেই সে ক্রেতাকে উত্তর দিল।
একশত টাকা দিয়ে বয়স্ক একজন ক্রেতা মশলা নিয়ে বাজারের ভিড়ে মিলে গেল।